Tuesday, February 4, 2020

ঢ়েঁড়সের পরিচিতি ও এর ঔষধি গুণ




ঢ়েঁড়স একটি গ্রীষ্মকালীন সবজি। এর ইংরেজি নাম হলো:Lady’s Finger,গোত্র:Malvaceae, বৈজ্ঞানিক নাম:Hibiscus esculentus। শুষ্ক ও আদ্র উভয় অবস্থায় বছরের যে কোন সময়ে এই সবজি জন্মানো সম্ভব। সাধারণত খরিপ মৌসুমেই এ চাষ হয়ে থাকে। ঢ়েঁড়স গুল্ম জাতীয় উদ্ভিদ। এটি লম্বায় ১-১.৫ মিটার পর্যন্ত হয়ে থাকে। ঢ়েঁড়সের কান্ড , পাতা ও ফল লোমযুক্ত এবং খসখসে । পাতা দেখতে অনেকটা এরন্ড গাছের পাতার মতো। ৩-৫ অংশে বিভক্ত পাতা। ফুল হলদে , মধ্যভাগ বেগুনি রঙের , গায়ে শিরাযুক্ত ফল ১৫-৩০ সে:মি পর্যন্ত লম্বা হয়। ফলের অগ্রভাগ ক্রমশ সরু। পেকে গেলে ভেতরের বীজ দেখতে হয় ধূসর রঙের। বীজ বৃক্কাকার, কালো।


ঢ়েঁড়সের পুষ্টিমান ও ভেষজ গুন


ঢ়েঁড়সে যথেষ্ঠ পরিমাণ আষি, ভিটামিন এ, বি, সি এবং বিভিন্ন খনিজ পদার্থ বিশেষ করে ক্যালসিয়াম, লৌহ , আয়োডিন, প্রোটিন, ম্যাগনেসিয়াম, ফসফরাস, পটাশিয়াম, সালফার, সোডিয়াম বিদ্যমান। ঢ়েঁড়সের আঁশ জাতীয় অংশ কোষ্ঠকাঠিন্য প্রতিরোধ করে।

ঢ়েঁড়স মুখের রুচি বাড়ায় এবং পিত্ত ও শ্লেষ্মানাশক হিসেবেও কাজ করে। মুত্রনালির রোগ, ডায়াবেটিস ও আমাশয় রোগের জন্য অনেক উপকারী। এটি হজম শক্তি বৃদ্ধিতে সহায়তা করে। এটি গ্রহনে ক্যালসিয়ামের ঘাটতি পুরন করে এবং হাড়ের ব্যাথা উপসম করে।

ঢ়েঁড়সের নানাবিধ ব্যবহার



ঢ়েঁড়স ভাজি, ভর্তা , নিরামিষ তরকারি, ডালের মধ্যে, সর্ষে ঢ়েড়স ইত্যাদি সুস্বাদু রান্না হিসেবে ব্যবহৃত হয়। যারা ডায়াবেটিসের রোগী তারা ৪-৫ টি কচি ঢ়েঁড়স সিদ্ধ পানিতে ১ গ্রাম কালোজাম বীজের গুঁড়া মিশিয়ে কয়েক দিন খেলে রক্তে সুগারের মাত্রা কমে যায়। 

শরীর মনে অস্বস্তিভাব এল বীজ ছাড়া ৩ কাপ ঢ়েড়স সিদ্ধ করে এক কাপ থাকাবস্থায় নামিয়ে নির্যাসটুকু খেলে শরীরে স্ফুর্তিভাব আসে। প্র¯্রাবে অতিরিক্ত গন্ধ হলে বীজ ছাড়া ২০-৩০ গ্রাম ঢ়েঁড়স ৪-৫ কাপ পানিতে সিদ্ধ করে দেড়-দুই কাপ থাকতে নামিয়ে ছেঁকে ঠান্ডা করে পান করলে উপকার মেলে। যাদের খুসখুসে কাশির সমস্যা আছে তারা বীজ ছাড়া কাঁচা ঢ়েঁড়স টুকরো করে চিনির ঘন সিরায় মিশিয়ে জ্বাল দিয়ে পরে ধীরেসুস্থে খেলে উপকার পাওয়া যায়।


6 comments: